নিউজ ডেস্ক: ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UPSC) চূড়ান্ত ফলাফলে ৪৪তম র্যাঙ্ক অর্জন করে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের আকাঙ্ক্ষা সিং। চারবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর পঞ্চম প্রচেষ্টায় এই সাফল্য তার অদম্য মনোবল ও লক্ষ্যপূরণের দৃঢ় সংকল্পেরই স্বাক্ষর বহন করে। পেশায় একজন সহকারী অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও সময় ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই অপরাজেয় নয়।
ব্যর্থতাকে দুর করে সাফল্যের সিঁড়ি
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল—চার বছর ধরে ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি আকাঙ্ক্ষা। তবে প্রতিবারই ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে ভুলগুলি শুধরে নিয়েছেন। “প্রিলিমস পেরোলেই মেনসের পথ সহজ” — এই বিশ্বাসে মক টেস্টের মাধ্যমে নিজের প্রস্তুতি যাচাই এবং Current Affairs-এর ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি। পঞ্চমবার প্রিলিমসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেনস ও ইন্টারভিউয়ে ধারাবাহিক সাফল্য তাকে এনে দেয় আইএএসের পদ।
চাকরি ও পড়াশোনার সমন্বয়
রাঁচির এসএস মেমোরিয়াল কলেজে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দিনে ৮ ঘণ্টা পড়াশোনার রুটিন বানিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ভোরে ৪ ঘণ্টা ও রাতে ৪ ঘণ্টা করে ইউপিএসসির সিলেবাস কভার করতেন তিনি। ভূগোল ছিল তার ঐচ্ছিক বিষয়, যা তাকে মেনস পরীক্ষায় সুবিধা এনে দেয়। সময় স্বল্পতা সত্ত্বেও নোটস সংক্ষিপ্তকরণ এবং রিভিশনের ওপর জোর দেওয়া ছিল তার স্ট্র্যাটেজির মূল অংশ।
বাবার দেখানো পথে অনুপ্রেরণা
ঝাড়খণ্ড সরকারের ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টে যুগ্ম সচিব চন্দ্রকুমার সিংয়ের মেয়ে আকাঙ্ক্ষার মধ্যে প্রশাসনিক পরিষেবার প্রতি আগ্রহ জন্মায় শৈশব থেকেই। “বাবা সরকারি কাজের মাধ্যমে সমাজসেবার যে দৃষ্টান্ত রেখেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে,” বলেন তিনি। পড়াশোনায় তার এই মনোভাব গড়ে উঠেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরাণ্ডা হাউস ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) এমফিল ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষাজীবনের মধ্য দিয়ে।
সবার জন্য বার্তা
আকাঙ্ক্ষার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, তা লক্ষ্যহীন তরুণদের জন্য প্রেরণার উৎস। তার মতে, “ইউপিএসসি যাত্রায় ধৈর্য্য ও পরিকল্পনা। ব্যর্থতা চূড়ান্ত নয়, বরং নিজেকে পুনর্বিন্যাসের সুযোগ।” রাঁচি থেকে দিল্লি পর্যন্ত তার এই যাত্রাপথ প্রমাণ করে, সঠিক প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ে অসম্ভবকে জয় করা যায়।